শিরোনাম
ইউনিয়ন আ’লীগের কমিটি নিয়ে এমপির গাড়ি দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ মঙ্গলবার নব-নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরগণের শপথগ্রহণ কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: মেয়র কাউন্সিলরদের শপথ ৫ জুলাই পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৪২ বোতল ফেন্সিডিল সহ ১জন আটক মেয়র আরফানুল হক রিফাতকে কুমিল্লা ক্রীড়া পরিবারের সংবর্ধনা কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার নারীদের স্বাবলম্বী করতে সুনেহেরা ক্রিয়েশন এর বিনামূল্যে ওয়ার্ক সপ ফরিদপুরে ৪০ মন ওজনের কালাপাহাড় নামক গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫ লক্ষ টাকা  কুমিল্লায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নারীর দায়ের করা মামলায় ধর্ষক গ্রেপ্তার  জামালপুর রেলওয়ে ওভারপাসে আরো ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, ব্যয় দাড়ালো ৪৫০ কোটি টাকা ঢাবির ‘খ’ ইউনিটে প্রথম রাজেন্দ্র কলেজের নাহনুল কবির নুয়েল
ছোটবেলা থেকেই শিক্ষক হতে চেয়েছি

ছোটবেলা থেকেই শিক্ষক হতে চেয়েছি

মো: জাহিদুল ইসলাম পড়াশোনা করেছেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে৷ স্বপ্ন দেখতেন আদর্শ মানুষ হবার৷ প্রতিকূলতা, সংগ্রাম আর সাফল্যে ঘেরা একটি নতুন ভোরের৷ সকল প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে তিনি বর্তমানে তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। শিক্ষাকতা পেশায় আসা, প্রতিকূলতা, ব্যার্থতা ও সাফল্যের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন দৈনিক সোনালী সকাল এর সাথে৷ তার মুখোমুখি হয়েছিলেন হুমায়রা আনজুম শ্যামসী। দৈনিক সোনালী সকাল -জানার আছে অনেক কিছুই তবে আপনার বেড়ে ওঠার গল্প দিয়েই শুরু করতে চাই। জাহিদুল ইসলামঃ- সাতক্ষীরা জেলার মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদের তীর ঘেঁষে তালা উপজেলার জাতপুর গ্রামে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। পাঁচ ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে আমি ছিলাম ভাইদের মধ্যে সবার ছোট। অনেক ভালবাসা, আদর এবং স্নেহের মধ্যে আমি আমার পারিবারিক জীবন অতিবাহিত করেছি। সময়ের সাথে সাথে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে অনন্তর চেষ্টা চালিয়েছি৷ দৈনিক সোনালী সকাল- পড়াশোনার ক্ষেত্রে কি প্রতিবন্ধকতা ছিলো? জাহিদুল ইসলামঃ- পড়াশোনার বিষয়ে আমার পরিবার খুবই যত্নশীল ছিলেন। আমার বাবা নিজেই একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। যদিও পাঁচ ভাই তিন বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে বাবাকে হিমশিম খেতে হতো তবুও শত কষ্ট হলেও আমাদের লেখাপড়ায় কোন অভাব বুঝতে দিতেন না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের যখন তৃতীয় বর্ষে পদার্পন করি, তখন পড়াশোনার দিক থেকে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছিলাম কারণ বাবা তখন চাকরি থেকে অবসরে নিয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আমার বড় বোন এবং সেজ ভাই আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছায়া দিয়েছিলেন বট গাছের ন্যায়, এবং বাবার দায়িত্ব কিছুটা তারা নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। আমার জীবনের সেই কঠিন সময়ে তাদের যে অবদান ছিল তা কখনো ভোলার নয়। দৈনিক সোনালী সকাল- এত পেশা থাকতে শিক্ষকতা কেন বেছে নিলেন? জাহিদুল ইসলামঃ- পারিবারিকভাবে আমি শিক্ষকতা পেশার ওপর অনেক বেশি দূর্বল ছিলাম কারণ আমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন, আমার বড় দুই ভাই এবং বড় দুই বোন তারাও এই শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত আছেন। মূলত তাদের থেকে আমি আমার শিক্ষকতা পেশায় আসার মূল উৎসাহ পেয়েছিলাম। দৈনিক সোনালী সকাল – জীবনের কোন পযার্য়ের এসে নিজেকে শিক্ষক হিসেবে দেখতে চান? জাহিদুল ইসলাম – আমার স্কুল জীবন থেকেই নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে দেখার সপ্ন দেখি এবং সেই ভাবে এ নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে থাকি। দৈনিক সোনালী সকাল – পর্দার আড়াল থেকে কে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে ? জাহিদুল ইসলামঃ- আমার জাগতিক জীবন বলতে,পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে আমি আমার বাবার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি। বাবা হলেন আমার জীবনের পথ প্রদর্শক। তার দেখানো পথই আমার জীবনকে আলোয় ভরিয়ে দেয়। আমি এখনও আমার বাবার কাছ থেকেই অনূপ্রেরণা পেয়ে থাকি। সবার জীবনে কেউ না কেউ আর্দশের স্থান নিয়ে থাকেন, ঠিক তেমনি আমার জীবনে আমার বাবা সেই স্থান জুড়ে বিরাজ করছেন। দৈনিক সোনালী সকাল – শিক্ষক হিসেবে কি কোন প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন ? জাহিদুল ইসলামঃ- শিক্ষক হিসেবে এখনো কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হইনি।আল্লাহ এর অশেষ রহমত এবং সকলের দোয়া ও ভালবাসায় আশা করি সামনের দিন গুলো সুন্দর কাটবে। দৈনিক সোনালী সকাল – শিক্ষক হিসেবে আগামীর পরিকল্পনা কী? জাহিদুল ইসলামঃ- সামনের পরিকল্পনা হলো নিজেকে গবেষণামূলক কাজের সাথে নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি বাহিরের দেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেয়ার জন্য প্রস্তুত করা। দৈনিক সোনালী সকাল – নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য কি পরামর্শ দিবেন? জাহিদুল ইসলামঃ- নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য আমার ছোট পরামর্শ হলো, সব সময় নতুন কিছু শিখার মধ্যে থাকা, সাথে নিজে শিখে অন্যকে শিখাবার মানুষিকতা ও রাখা এবং একজন সৎ ও নিরঅহংকারী মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার কঠিন মনবল রাখা। দৈনিক সোনালী সকাল – শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে দেশের কোন সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরেছেন? জাহিদুল ইসলামঃ- বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে আদর্শ মানুষ তৈরীর কাজে সামান্য অবদান রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং সেই সাথে গরীব দুঃখীর পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। দৈনিক সোনালী সকাল -নিজের কাছের শিক্ষক হিসেবে কতটুকু সফল শিক্ষক আপনি? জাহিদুল ইসলামঃ- একজন শিক্ষক হিসেবে তার উপর যে গুরু দায়িত্ব থাকে তা হয়তো অনেকেই সম্পন্ন করে উঠতে পারিনি আর সম্পন্ন করা সম্ভবও নয় কারণ ভালো কাজের কোন শেষ হয় না তবে শিক্ষকতা জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখার জন্য। আমি বিশ্বাস করি সমাজ ও দেশকে যদি ভালবাসতে পারি, দেশের মানুষকে যদি ভালবাসতে পারি, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি তাহলে শিক্ষা ও জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে সাথে বাংলাদেশ তথা বিশ্ব একদিন পরিবর্তন হবে। এর জন্য সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।আমি যেন আমার লক্ষ্যে ঠিক থেকে নিজেকে এবং দেশ কে বিশ্ব দরবারের কাছে তুলে ধরতে পারি। দৈনিক সোনালী সকাল – আমাদের সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ । জাহিদুল ইসলাম- আপনাকেও ধন্যবাদ৷ দৈনিক সোনালী সকাল এর জন্য শুভকামনা৷

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY SmartHostBD.com